সাফল্যের কাহিনী

মোঃ সাইফুল ইসলাম স্মরন

Md.Saiful Islam Saron

মোঃ সাইফুল ইসলাম স্মরন

ক্রিয়েটিভ সার্কেল লিঃ, ক্রিয়েটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং সল্যুশন

মোঃ সাইফুল ইসলাম স্মরন, CREATIVE CIRCLE LTD, Creative Engineering Solution

দিনা লায়লা : এগিয়ে যাওয়ার নাম

একজন আত্নপ্রত্যয়ী উদ্যোক্তার নাম দিনা লায়লা। । দিনা লায়লার ভাষায়, ‘অনেক কষ্টে অর্জন করা সাহসটাকে আরো সুদৃঢ করতে চাই।’ এই সাহসটি হলো নারীর ক্ষমতায়ন, ইচ্ছার বাস্তব রুপায়ন, এ সাহসটা হলো তাঁর কষ্টের দিনের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা। ঢাকা মিরপুর-১০ এর বাসিন্দা দিনা লায়লা আজ নিজের লালিত স্বপকে পূরণ করার জন্য এগিয়ে যাচ্ছে।
এ এগিয়ে যাওয়া এত সহজ ছিল না। বার বার চেষ্টা করেও দিনা লায়লা কোন কোন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ পাচ্ছিলেন না। দিনা লায়লা বলে, লেখাপড়া শেষ না করেই নিজের পছন্দ অনুযায়ী বিয়ে করেন সুজনকে। অনেক বাধা বিপত্তি সহ্য করে, পরিবারের সাথে এক রকম যুদ্ধ করেই তিনি ২০১৪ সালে একটি পার্লার দিয়েছিলেন । এ কাজে যথেষ্ট দক্ষতা থাকায় ব্যবসার আয় দিয়ে সংসার কোন রকমে চলছিল, ২০১৬ সালে তার ব্যবসার পুঁজি ছিল ৩ লক্ষ টাকা। দিনা লায়লার মনে প্রতিষ্ঠিত উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দানা বেধেঁ ওঠে। এরই মধ্যে তাদের সংসারে নতুন অতিথি আসে, বেড়ে যায় সংসারের খরচ। স্বামী ও তার আয় দিয়ে সংসারের পুরো ব্যয় বহন করা দুরুহ হয়ে পড়ে। ছোট্ট বিউটি পার্লারকে বড় করার জন্য বিভিন্ন ব্যাংকে ঋণের জন্য ধর্ণা দিয়েছিল দিনা লায়লা। ব্যবসার কাজপত্র থাকা সত্বেও কোন প্রতিষ্ঠান তাকে চাহিদা অনুযায়ী ঋণ দিচ্ছিল না, কী কারণ সে জানে না।
তারই এক পরিচিত বন্ধুর সাথে তিনি একদিন বি’ইয়া’র সাথে যুক্ত হন। ৫ দিনের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে তিনি ব্যবসা সম্পর্কে আদ্যোপান্ত জানতে পারেন, যা আগে তিনি কখনোই ওভাবে জানতেন না। এর পর তিনি বি’ইয়া’র সহযোগীতায় ব্যবসা পরিকল্পনা থেকে শুরেু করে ব্যাংক হিসাবরক্ষণ প্রভৃতি বিষয়গুলো সহকারে তিনি বি’ইয়া’র পরামর্শে মাইডাস ফাইন্যান্সিং লিমিটেড এ একটি পূর্ণাঙ্গ ঋণ প্রস্তাবনা জমা দেন। বি’ইয়া’র সাথে যুক্ত অনেক উদ্যোক্তাই মাইডাস থেকে ঋণ পেয়েছেন, এরই ধারাবাহিকতায় এক মাসের মধ্যে দিনা লায়লা ৪ লক্ষ টাকা ঋণ পেয়ে তাঁর ব্যবসাটি সম্পসারণ করার সুযোগ পায়। এখন বিউটি পার্লারের সাথে একটি জিম এবং একটি বুটিক হাউস যুক্ত করেছেন। আর খুব খেয়াল রাখেন ক্রেতার প্রতি সর্বোচ্চ সেবা প্রদানের বিষয়টি। ধীরে ধীরে তার প্রতিষ্ঠানটির সেবার গুণগতমান ও জনপ্রিয়তা বেড়েই চলেছে। প্রতিমাসে ঋণ নিয়মিত শোধ করার পরও দিনা লায়লার হাতে বেশ কিছু টাকা উদ্বৃৃত্ত থাকে যার থেকে কিছু সঞ্চয় করছেন। এখন তাঁর প্রতিষ্ঠানে ৬ জন কর্মী কাজ করছে। এবার তিনি পরিকল্পনা করেছেন আরো একটি পার্লাার ও জিমের শাখা খুলবেন। সাথে সাথে বি’ইয়া’র নতুন উদ্যোক্তার সাথে নিয়মিত আলোচনা করেন, ব্যবসা পরামর্শ দেন । দিনা লায়লা একটা কথাই নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য বলেন, লক্ষ্যটাকে স্থির রেখে, ধ্যৈর্য ধরে রাখা। সফলতা একদিন আসবেই।”

দিনা লায়লা, বিস্তারিত

চাকরি ছেড়ে উদ্যোক্তা হয়েছে ওয়াহাব

চাকরি ছেড়ে ব্যবসা শুরু করেছেন ওয়াহাব খাঁন, গড়ে তুলেছেন নিজের একটি স্বাধীন ব্যবসা। এতবড় কঠিন সিদ্ধান্ত ওয়াহাবকে জীবনে আর দ্বিতীয়টি নিতে হয়নি। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত অনেক আগে নিলে জীবন আরো বলে যেতো বলে মনে করেন ওয়াহাব। আজ ওয়াহাব চাকরিজীবি নয়, পুরোদস্তুর উদ্যোক্তা, অসংখ্য মানুষকে চাকরি দেয়ার স্বপ্ন দেখেন তিনি।
ওয়াহাব এর বয়স ২৭ বছর। অভাব কি জিনিস তা ওয়াহাবের মত আর কেউ জানে না বোধ হয়। কাজের সন্ধানে গ্রাম থেকে তার বাবা ঢাকায় চলে আনেস — সালে। তখন ওযাবের বয়স ৬ বছর। তার ছোট দুই ভাই মিলে একটি ছোট ঘরে তাদের শৈশব কেটেছে অনেক কষ্টে। কিন্তু শত কষ্ট সত্বেও ওয়াহবের বাবা-মা ওয়াহাবকে লেখাপড়া ককরিয়েছেন, ওয়াহাব ও মনে মনে ভেবেছে এই অভাব থেকে নিস্তার পেতে হলে তাকে লেখাপড়া শিখতেই হবে। একটি চাকবরি পেলে ওয়াহাব বাবা-মায়ের দু:খ ঘোচাবেন। খেয়ে না খেয়ে, চেয়ে-চিন্তে ওয়াহাব লেখাপড়াটা চালিয়ে গেছে। এমনকি রাতে ঘরে আলো নাও জ¦লতে পারে বেবে সে স্কুল তেকে ফিরে বিকেলে পড়া করে রেখেছে, যাতে কেরোসিন কেনার বাড়তি বোঝা বাবাকে বইতে না হয়। অনেকদিন কেটেছে। ওয়াহাব পলিটেকনিক্যাল থেকে ইলেকট্রিকে ডিপ্লোমা করে ঢাকায় একটি বড় কোম্পানিতে চাকরি নিয়েছে। ধীরে ধীরে তার দক্ষতা ও মেধায় সেখানে উন্নতি করছে, যে রোজগার করতো তা দিয়ে মা, ভাইদের চাহিদা খুব ভালভাবেই পূরণ হতো, সংসারের দায়িত্ব সফল ভাবেই সামলিয়েছে। বাবা সে সুখ দেখে যেতে পারেনি। ওয়াহাব বলে, ঐ চাকরি করেও আমি তৃপ্তি পাচ্ছিলাম না। নিজের দক্ষতাকে নিজের মত করে প্রকাশ করতে পারছিলাম না। উদ্যোক্তা হওয়ার একটা তাগিদ ছিল নিজের ভেতর।
উদ্যোক্তা হওয়ার ভাবনাই তাকে বি’ইয়া’র সাথে যুক্ত করে। প্রথমে কিছুটা দ্বিধা থাকলেও বি’ইয়া’র ৫ দিনের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করার পর চাকরি ছেড়ে উদ্যোক্তা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে আর দেরি হয়নি ওয়াহাবের। পরিবারের সদস্যরা ওয়াহাবের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। ওয়াহাব শুরু করে এসি ফিটিংস এর এঙ্গেল তৈরি ওয়ার্কশপ। তার তৈরি এসি লাগানোর এঙ্গেল অল্প কয়েকদিনের মধ্যে মিরপুর এলাকায় বেশ পরিচিত পায় । ২ জন কর্মী রেখে ওয়ার্কশপ পরিচালনা করছে ওয়াহাব। প্রতিষ্ঠানের নামে ট্রেড লাইসেন্স, ব্যাংক একাউন্ট খোলা হয়েছে। দৈনিক হিসাব খাতায় লিখে রাখা হচ্ছে। একটা সুনির্দিষ্ট ব্যবসা পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে ওয়াহাব। ইতিমধ্যে দু’টি প্রতিষ্ঠিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কাছে বড় অঙ্হের ওয়ার্ক অর্ডার পেয়েছে । এখন ব্যবসার শুরুর পর্যায়ে, তবে ওয়াহাব বলে, আরো আগে এটি শুরু করলে এতদিনে তার প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হয়ে যেত। কিন্তু চাকরি থেকে উদ্যোক্তা হওয়ার ঝুঁকিটি নিতে পারছিল না সে,বি’ইয়া তাতে এগিয়ে যাওয়ার পথ দেখিয়েছে। সে চায়, তরুণরা চাকরির প্রত্যাশষা না করে সৃজনশীল কাজে উদ্যোগ গ্রহণ করলেই একদিন সফল হতে পারবে।

 

ওয়াহাব , বিস্তারিত

হার না মানা নূপুর

প্রত্যেক মানুষই সৌন্দর্য পিপাসু, নিজেকে অন্যভাবে উপস্থাপন করতে চায় সবাই, পৃথিবীর সব স্থানে অনেক আগে থেকেই নারীরা তার সৌন্দর্য সম্পর্কে সচেতন। পিছিয়ে নেই বাংলাদেশের নারীরা। কিন্ত নিজেকে পরিপাটি করে সাজিয়ে তুলতে অন্যের সহযোগিতার প্রয়োজন হয়। এই সাজসজ্জা হচ্ছে প্রত্যেক নারীর মনের প্রশান্তি। এই মনের মতো সাজকে ফুটিয়ে তুলতে প্রয়োজন হয় একজন সাজনীর।
নূপুর ছোট বেলা থেকেই বোনদের সাজনীর বাক্স নিয়ে সাজতে ভাল বাসতো। নূপুর স্বাধীন ভাবে কিছু একটা করার স্বপ্ন দেখতো। সাজগোজের প্রতি যেহেতু তার প্রবল একটা জোঁক ছিল, তিনি বিউটি পার্লারের ব্যবসা শুরু করার কথা ভাবতে ছিলেন। কিন্ত শুরু করবেন কি ভাবে?
১৪ বছর বয়সে বিয়ে হয়ে যায় পরের বছর হন সন্তানের মা।শ^শুরবাড়ীতে কোন বাঁধা নেই। এগিয়ে যাওয়ার প্রেরনা।স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে যাওয়ার শুরুতে প্রশিক্ষন নিয়ে নিলেন বিউটিফিকেশনের।পরিবার সমর্থন করলেও বাঁধা হলো সমাজ।
শুরুতে বিউটিপার্লারের জন্য কোন মালিক বাড়ি ভাড়া দিতে চায়নি। পঁয়ত্রিশ বছর বয়সী শারমিন সুলতানা নূপুর দমে যাননি, তিনি তার লালিত স্বপ্নকে বাস্তবে রুপ দিয়েছেন। সামাজিক বাধাঁকে উপেক্ষা করে পরিবারের সমর্থন নিয়ে গড়ে তোলেন “তানু’স বিউটি পার্লার’’।
মাত্র দুই লক্ষ টাকা পুঁজি নিয়ে বিউটি পার্লার প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানে পাঁচজন প্রশিক্ষিত কর্মী রয়েছে। নারীর রুপ চর্চার পাশাপাশি তিনি রুপ চর্চার বিভিন্ন হেলথ্ টিপস্ দিয়ে থাকেন। এখানে নারীর নিখুত ভাবে চুল কাঁটা, ম্যাসেজ, বৌ/ কনে সাজানো এছাড়া বিভিন্ন অনুষ্ঠানের সাজ করে থাকেন। এই পার্লারের বিশেস্বত্ব হলো গ্রাহকের সন্তষ্টি অর্জন।
সফল ব্যবসাযী হতে হলে অবশ্যই পরামর্শক প্রয়োজন। বাংলাদেশ যুব এন্টারপ্রাইজ অ্যাডভাইস এন্ড হেল্পসেন্টার আমার একমাত্র পরামর্শক হিসেবে ভ‚মিকা রেখেছে। আমি ধন্যবাদ জানাই বি’ইয়াকে। আমার পথ চলার পথকে আরো প্রশস্থ করার জন্য।
আমার এই পার্লারটি সেরাদের তালিকায় স্থান করে নিবে ও অসহায় নারীদের কর্মসংস্থানে ভ‚মিকা রাখবে, এই প্রত্যাশায় কাজ করছি।

নুপুর

শিল্পের রং তুলিতে ড চিং চিং

রং তুলিতে কোন প্রতিকী যখন সুন্দরভাবে পরিপূর্ণতা পায় তখনই তাকে শিল্প বলে। আর যার হাতের স্পর্শে এই কর্মটি সম্পাদন হয় তিনি হলেন শিল্পী। একজন শিল্পী চারিদিকের নানান রুপময় বৈচিত্র ও প্রকৃতি তার চিত্রে ফুটিয়ে তোলেন। তেমনি একজন শিল্পি উদ্যোক্তার নাম ড চিং চিং ()।
পড়ালেখা শেষ করে চাকরী করবেন এই স্বপ্নকে লালিত করে চৌত্রিশ বছর বয়সী ড চিং চিং পাহাড়ী উপত্যকা থেকে সমতলে নেমে এসেছিলেন, নানান স্থানে ঘুরে হতাশার ঘূর্ণিপাকে ক্লান্ত মন চাকুরির প্রত্যাশা ছেড়ে নতুন ভাবে বেঁেচ থাকার অবলম্বন খুঁজতে থাকেন।
ড চিং চিং এর ছোট বেলা থেকেই আকাঁআঁকির প্রতি ভীষণ আগ্রহ ছিল। সুযোগ পেলেই খাতা পেন্সিল নিয়ে আঁকতে বসে যেতেন। চারিদিকের গাড়ি কিংবা রিক্সার পেছনে নানা ধরণের বিজ্ঞাপন বা ছবি আঁকা গুলো তাকে বিমোহিত করতো। ছোট বেলার সেই বিজ্ঞাপন গুলোই তার আকাঁআঁকির পেশা হিসেবে বেছে নেন। তিনি রিক্সার ছবি আর্ট করতে শুরু করলেন, কিছু দিন যাবার পর তার হাতের কাজ গুলো বেশ সুনাম হতে লাগলো। তিনি ভাবলেন এই শিল্পকে প্রাতিষ্ঠানিক রুপ দেওয়া প্রয়োজন। “ফিনারী” নামক প্রতিষ্ঠানের তিনি স্বত্বাধীকারী হয়ে নতুন উদ্দ্যমে শুরু করলেন তার আগামীর পথ চলা।
মাত্র ত্রিশ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে যাত্রা শুরু করা “ফিনারী” প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে পনের জন কর্মী রয়েছে। আর মূলধন হয়েছে দুই লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা। থেমে নেই আঁকাআঁকির পথ চলা। বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন বোতল, অলংকার, মোবাইল কভারে রিক্সা ক্যানভাসের ছবি আকেঁন। শুধু তাই নয় এই প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন দেয়াল পেইন্ট, কাঠের পেইন্ট করে থাকেন। ড চিং চিং বলেন, এই শিল্পের কদর শেষ হয়ে যায়নি, বরং শহরের ইট কাঠের দেয়ালে মানুষ প্রকৃতিকে খুঁজে ফিরে।
“ফিনারী”বিভিন্ন পেইন্ট নিয়ে মেলাতে অংশগ্রহন করে বেশ সুনাম অর্জন করেছে। একটি দৈনিক প্রত্রিকায় প্রতিবেদন ও প্রকাশ করেছে।
ব্যবসার জন্য চাই নির্ভূল পরিকল্পনা ও নির্দেশনা। ব্যবসার শুরুর দিকে যা এই প্রতিষ্ঠানের ঘাটতি ছিল, বাংলাদেশ ইয়ূথ এন্টারপ্রাইজ অ্যাডভাইস এন্ড হেল্প সেন্টার(বি’ইয়া) সেই ঘাটতি পূরণে অগ্রণী ভ‚মিকা পালন করেছে। তার কথায়, বি’ইয়ার নিকট আমি চিরকৃতজ্ঞ, আমার এ পথচলায় সহযোগিতা করার জন্য। আমি প্রশিক্ষণে অংশ নিয়ে জেনেছি ব্যবসার খুঁটিনাটি বিয়ষ। যা আমাকে এগিয়ে নিতে সহযোগিতা করেছে। প্রথম দিকে তিনি বাসা থেকেইবি’ইয়াাকে ধন্যবাদ, একজন মেন্টরকে আমার ব্যবসা পরামর্শক হিসেবে পাওয়ার জন্যও।
আমি একজন শিল্পী ও উদ্যোক্তা, শিল্পের মাঝেই বেচেঁ থাকতে চাই। প্রকৃতির উদার দানকে রং তুলিতে মানুষের বিনোদনের অংশ করতে চাই এই স্বপ্ন নিয়ে আগামীতে “ফিনারীকে” একটি স্বনামধণ্য প্রতিষ্ঠানে রুপান্তরিত করাই একমাত্র ব্রত।

ড চিং চিং

ফরিদা অনুপ্রেরণার নাম

“একজন নারী উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিতে পেরেই অঅমি উচ্ছসিত ও আনন্দিত। আমার পরিবারের কেউ ব্যবসার সাথে জড়িত না থাকলেও আমি লেখাপড়া শিখে একজন উদ্যোক্তা হতে পেরেছি বলে আমি গর্ব বোধ করি” কথাগুলো তরুণ উদ্যোক্তা ফরিদা বেগমের।
ফরিদা তার উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার গল্পে বলেন, আমি মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে ওঠা একজন মেয়ে। এই পরিবারে মেয়েরা লেখাপড়া শিখে চাকরি করে, কখনো ব্যবসায় জড়িত হয় না। আমি যখন গণিত বিষয়ে মাষ্টার্স শেষ পর্বে তখন লেখাপড়ার আর ক্লাস পর কিছুই করার থাকতো না। প্রতিদিন খবরের কাগজ পড়তাম আর ব্যবসার পাতাটা খুব মনোযোগ দিয়ে দেখতাম। পরিবার থেকে ইতিমধ্যে বিয়ের জন্য চাপ দেয়া শুরু হয়েছিল। তবে একটা বিষয় ছিল, যদি সরকারি চাকরি পেয়ে যাই তবে বিয়ে কিছুদিন পরে করলেও চলবে। কখনোই ব্যবসার কথ্যা বলার সাহস হয়নি। অবশ্য ছোট বেলা থেকে বাসায় কাপড়ে বিভিন্ন কাজ করতাম। এরই মধ্যে আমার এক বন্ধুর মাধ্যমে বি’ইয়ার একটি ওয়ার্কশপে যাই। আমি যেন আমার মনের কথারই প্রতিধ্বনি শুনতে পাই। আমি সেদিনই প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, আমি উদ্যোক্তাই হবো।
বি’ইয়া’র ব্যবসা প্রশিক্ষণ নেয়ার পর আমি সেলাই এর প্রশিক্ষণ নেই। আমি প্রাইভেট পড়াতাম, হাত খরচের পরও বেশ কিছু টাকা জমা হয়েছিল। সে টাকা দিয়ে সেলাই মেশিন কিনে আমার বন্ধুর বাসার ছাদে একটি ঘর ভাড়া নিয়ে শুরু করি ফরিদাস হ্যান্ডি ক্রাফট এর পথ চলা। বন্ধুর বাসাতেই ব্যবসা শুরু করার পর আমি বুঝতে পারি আমার পণ্যের গুণগতমান উন্নয়ন করা প্রয়োজন। আমি এসএমই ফাউন্ডেশনে ফ্যাশান ডিজাইনের উপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করি। এর পর আমি আমার তৈরি পণ্যের গুণগতমানের উন্নয়ন করতে সক্ষম হই এবং স্থানীয় বাজারে আমার তৈরি পণ্যের চাহিদা ক্রমেই বাড়তে থাকে। একদিন আমার মা-বাবাকে বিষয়টি বুঝিয়ে বলি সেই সাথে আমার তৈরি কিছু পোষাক তাদের দেখাই। তারা এসব দেখে খুশি হয়, আমিও দ্বিগুণ উৎসাহ পেয়ে নতুন উধ্যোমে কাজে নেমে পড়ি।
সমস্যা দেখা দিল পণ্য বিপণনে। কোথায়, কার কাছে যাবো কিভাবে বিক্রি করবো এই ধরণের সমস্যা যখন পড়েছি ঠিক তখনই বি’ইয়া আমাকে মেন্টরের সাথে যুক্ত করে দেয়। আর একটি বিষয়, ২০১৮ সালে বি’ইয়া আয়োজিত পণ্য মেলায় আমার প্রথম অংশগ্রহণ করা। সেই মেলঅ থেকে আমি অনেক কিছু শিখেছি, জেনেছি এবং বুঝতে পেরেছি আমার পণ্যের কি কি পরিবর্তন করা প্রয়োজন, বিভিন্ন শ্রেণির ক্রেতাদের চাহিদা ও মানসিকতা। এর মধ্যেই অঅমি ব্যবসার রিখিত পরিকল্পনা করেছি, অংশগ্রহণ করেছি বি’ইয়াসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন প্রশিক্ষণে। আমি কৃতজ্ঞ আমার মেন্টরের মমতাজ মাকসুদ আপার প্রতি। তিনি আমাকে নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছেন।
আমি অনুভত করতে পারছি, একজন উদ্যোক্তা বিশেষ করে নারী উদ্যোক্তার জন্য বি’ইয়া’র মত একটি প্লাটফর্ম খুবই প্রয়োজন। আমি বি’ইয়া’র তরুণ উদ্যোক্তা প্লাপর্মের সাথে যুক্ত হতে পেরে খুবই গর্বিত ও আনন্দিত। এখন আমার ব্যবসার অনেক পরিবর্তন হয়েছে। এখন আমার প্রতিষ্ঠানে ছয়টি সেলাই মেশিন, দুই জন স্থায়ী কর্মী ও তিনজন অস্থায়ী কর্মী কাজ করছে। আমি আমার কারখানাটি পরিবেশ বান্ধব করার চেষ্টা করছি। বি’ইয়া’র সাথে যুক্ত হওয়ার পর কর্মী ব্যবস্থাপনা, লিখিত হিসাব রাখা, নেটওয়ার্ক বিষয়ে অনেক দক্ষ হয়েছি। আমার বাবা মা এখন অনেক খুশি। তারা বুঝতে পেরেছে, একজন নারীও একজন বভালো উধ্যোক্তা হতে পারে। আমার একটি কাহিনী ওয়াইবিআই এর ওয়েবসাইটে স্থান পেয়েছে। আমিও চেষ্টা করছি যাতে অন্য তরুণরাও আমার মত উধ্যোক্তা হতে পারে।
পরিশেষে, এখন আমি আমার পরিচয়ে পরিচিত। সকলেই আমাকে একজন উদ্যোক্তা হিসেবে চেনে। বিভিন্ন মেলায় অংশগ্রহণ করছি। আমি আতœবিশ^াসী যে আগামী তিন বছরের মধ্যে আমার ফরিদাস্ হ্যান্ডিক্রাফট একটি বড় প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে। অনেক ছেলে-মেয়ের কর্মসংস্থান হবে। আমার তৈরি পণ্য দেশেরই বাইরে রপ্তানী হবে। ামি চাই প্রত্যেক নারী তার নিজের কাজের গুণেই বাচুঁক।

ফরিদা

স্বপ্ন বাস্তবায়নে নিরলস উদ্যোক্তা তুষার আবদুল্লাহ

একজন ২৯ বছরের তরুণ, যে শুধু স্বপ্ন দেখে আর বসে থাকেনি। উদ্যোক্তার পথটা অমসৃন জেনেও যে হাসিমুখে সব বাধা বিপত্তি মাড়িয়ে চলেছে লক্ষ্যের দিকে দ্বিধাহীন। সেই সফল তরুণ উদ্যোক্তার কিছু কথা জানাই তার মুখ থেকেই।
“আমি আবদুল্লাহ তুষার। আমরা লক্ষ্মীপুর জেলার স্থানীয় বাসিন্দা, বর্তমানে মিরপুরে থাকি আর ব্যবসাও এখানেই। উচ্চশিক্ষার জন্য আমার ঢাকায় আসি ২০০৯ সালে। পকেট খরচের জন্য বাবা আমাকে টাকা পাঠাতেন। সেখান থেকে আমি টাকা সঞ্চয় করে নতুন নতুন পোশাক কিনতাম। এটা ছিল আমার নেশা। টাকা জমিয়ে আমি ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায় যেতাম নতুন নতুন পোশাক কেনার জন্য। ভাবতাম পড়াশোনা শেষ করার পরে, আমি কি করব। আমি কখনো চাকরি করার কথা ভাবিনি যদিও আমার পরিবারের সকলেই পেশায় চাকরিজীবি। এক মামার সাথে, আমি একটি অনলাইন ব্যবসা শুরু করি। অন্য কোন পণ্যের কথা মাথায় আসেনি, শুধু চিন্তায় ছিলো যা করার তা ছেলেদের পোষাক নিয়েই করবো। বিভিন্ন জায়গা থেকে কাপড় সংগ্রহ করে বিক্রি করতাম, কিন্তু সেই সময় আমরা লাভ করতে পারিনি। পণ্যের গুণগতমানও ভালো ছিলো, কিন্তু কিছুতেই লাভের মুখ দেখতে পাচ্ছিলাম না। আমি মহা সমস্যায় পড়ে যাই। অনেকের কাছেই সমস্যার কথা বলি, কিন্তু সমাধান পাচ্ছিলাম না। যোগাযোগ হয় বি’ইয়া’র সাথে। এটা ২০১৭ সালের প্রথম দিকে। দু’টি প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করি, তারপর বিজনেস প্লান তৈরি করার সময় আমরা আমাদের সমস্যার সমাধান পেয়ে যাই। আমি বুঝতে পারি যে, তখন (২০১২ সাল) অনলাইন সবে মাত্র শুরু হয়েছে বাংলাদেশে। অনলাইন কেনাকাটায় বেশিরভাগ মানুষই অভ্যস্ত হয়নি। আমরা অনলাইনে কেনার প্রবণতা থেকে বুঝতে পারি, মূলত উৎসব ধর্মী পোশাক অনলাইনে বেশি বিক্রি হচ্ছে এবং ক্রেতা হিসেবে তরুণরাই বেশি। ফলে আমরা আমাদের কৌশল পরিবর্তন করে ঈদে-এর মৌসুমে নতুন করে কাজটা আবার শুরু করি। এবার আমরা প্রচুর পরিশ্রম করি এবং ভালো সাড়া পাই। এতে আমাদের অনেক লাভ হয় এবং আত্মবিশ^াস ফিরে আসে। আমাদের প্রতিষ্ঠান অবৎড় ইষঁব এই দুই বছরেই একটি ব্র্যান্ড নামে পরিণত হয়েছে।
বি’ইয়া’র তরুণ উদ্যোক্তা কার্যক্রমে আমি একজন সক্রিয় কর্মী। গত তিন বছরের মধ্যে আমরা উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করি। মাত্র বিশ হাজার টাকা নিয়ে ব্যবসা শুরু করলেও এখন এর বর্তমান মূলধন সাত লক্ষ টাকা। শুরুতে একাই কাজ করতাম, এখন আমার প্রতিষ্ঠানে আরো সাতজন কর্মচারী আছে। বি’ইয়া’র সহযোগিতায় আমি মাইডস থেকে ৫ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়েছি। একজন মেন্টর পেয়েছি, তিনি আমাকে ব্যবসার বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করছে। বি’ইয়াতে এসে আমার অন্য অনেকের সাথে নেটওর্য়াকিং হয়েছে। এ বছরের (২০১৯) শুরুতে নোয়াখালীতে অবৎড় ইষঁব এর আর একটি শোরুম খুলেছি। আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশের বিভিন্ন শহরে আরো দুটি শোরুম দিতে চাই।”
এভাবেই এগিয়ে যাচ্ছে তুষার তাঁর স্বপ্ন পূরণের পথে।

তুষার

আত্ববিশ্বাসী ও সংগ্রামী নারী উদ্যোক্তা হালিমা সিকদার

স্বপ্ন মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে, স্বপ্নের সিড়িঁ বেয়ে মানুষ তার সঠিক গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে বলে যার দৃঢ় ধারণা সেই প্রবল বিশ্বাসী মানুষটির নাম হালিমা সিকদার(৩৪)। এক সময় তিনি ছিলেন সাধারণ নারীদের একজন। আজ তিনি একজন সফল উদ্যোক্তা সফল ব্যবসায়ী।
পড়ালখা শেষ করে তিনিও ভেবে ছিলেন অন্যের মতো চাকরি করবেন। একটি প্রতিষ্ঠানে তিন বছর চাকরি করার পর মনে হল অন্যের অধীনে কাজ না করে নিজের মতো করে একটি স্বাধীন ব্যবসা করা যায় কিনা। নিজের পরিচিতি ও মেধাকে কাজে লাগিয়ে নতুন কিছু করার দৃঢ় প্রত্যয়ে হালিমা সিকদার আত্ববিশ্বাসী হয়ে উঠেন। তিনি চিন্তা করলেন,সব মানুষই তার পোষাকের প্রতি সচেতন। বিশেষ করে নিত্য নতুন পোষাকের প্রতি মানুষের আগ্রহ বেশী থাকে।
মুসলিম নারীদের লক্ষ্য করে তিনি নারীদের “আবায়া’’ তৈরি ও বিক্রয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। ঢাকার মোহাম্মদপুরে “সাফেরো” নামে একটি পোষাক প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধীকারী হিসেবে আতœপ্রকাশ করেন।
প্রথমে পরিচিত মানুষদের মাধ্যমে শুরু হলেও ধীরে ধীরে নানা প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে তার বাহারী ধরনের পোষাকের (আবায়া) খবর। সেই পথ চলা শুরু আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। কিন্তু এই পথটা মোটেও মসৃণ ছিলো না বা এখনও নয়। একজন নারীকে একজন উদ্যোক্তা হতে হয় অনেক ধৈর্য্য, সাহস আর ত্যাগের বিনিময়ে। তিনি বলেন, আমি এখন বুক ভরা নি:শ্বাস নিতে পারছি, কিন্তু এক সময় আমি হতাশায় দিন পার করতাম আর এখন আমি ব্যস্ততায় দিন পার করি। আমি এখন স্বাবলম্বী নারী। এমন একটা সময় গেছে যখন আতœীয়স্বজন এমনকি পরিবার থেকেও তীর্যক কথা ছাড়া কিছুই পাইনি। আর সেই অবহেলাই আমাকে অনুপ্রেরণা দিয়েছে নিজে কিছু করার, মাথা তুলে দাঁড়ানোর। পেয়েছি বি’ইয়ার সন্ধান। সাহস, প্রেরণা, প্রশিক্ষণ, মেন্টর আর পেয়েছি উদ্যোক্তাদের একটি পরিবার। তরুণ উদ্যোক্তাদের পরিবার বি’ইয়া’র একজন সদস্য হিসেবে আমি গর্বিত, আনন্দিত।
বর্তমানে তার প্রতিষ্ঠানে পাঁচজন কর্মী রয়েছে, ভবিষ্যতে আরও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবেন। “সাফেরো” প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নারীদের চাহিদা ভিত্তিক পোষাক সরবরাহ করাই মূল লক্ষ্য। তালিমা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এভাবে, বি’ইয়া প্রতিষ্ঠানই আমাকে ব্যবসার নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে,দিয়েছে মেন্টর। তাদের ঐকান্তিক পরামর্শ আমার পথকে আরও প্রশস্ত করেছে।
আমি স্বপ্ন দেখি “সাফেরো” প্রতিষ্ঠান থেকে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে সকল স্থানে তার নিজস্ব ব্রান্ডের পোষাক এক নামে চিনবে।

হালিমা সিকদার

‘চিরুনী’ একটি উদ্যোগের নাম


কিশোরগঞ্জের মেয়ে সিরাজুম মনিরা( ২৩) একজন আত্মবিশ্বাসী ও সম্ভাবনাময়ী উদ্যোক্তা। অনলাইনে চিরুনী ডট কম হতে চুলের হারবাল তেল ও হোম মেইড কেক বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ২০১৯ সালের মাঝামাছি ফিণ্যান্সে মাষ্টার্স শেষ করে এখন সিরাজুম মুনিরা তার উদ্যোগকে সার্থক করার জন্য চেষ্টা করছেন। তার ধারণা সেই দিন খুব বেশি দুরে নয় যদেন সে চাকরিদাতায় পরিণত হবে।
সিরাজুম মুনিরা প্রায়শই বাসায় শখের বশে কেক বানাতেন। পরিবার ও আতœীয় স্বজনের ছোট ছোট অনুষ্ঠানে সে কেক দিত। সকলেরই প্রশংসা করতো। চিন্তা ছিলো কিভাবে এর থেকে আয় করা যায়। কিš ‘পারিবারিক নিয়মকানুনের জন্য এক লেখাপড়ার বাইরে আ কোথাও যোগাযোগ তেমন ছিরো না তার। এক উদ্যোক্তা সহপাঠির সহযোহিতায় বি’ইয়া’র সাথে যোগাযোগ এবং কিছু প্রশিক্ষণ গ্রহণ পর তার চিন্তার দিগন্ত খুলে যায়। কেকের পাশাপাশি সিরাজুম মুনিরা চুলের জন্য নারকেলের তেল এবং কাঠের তৈরি চিরুনী বাজারজাত করছেন তিনি। সিরাজুম মনিরা বলে, আমি নিজের প্রয়োজনে নিজের উদ্ভাবনে বিভিন্ন হারবাল উপকরণ দিয়ে নারকেলের তেল তৈরি করেছিলাম। সেই তেল আমি ও পরিবারে সকলেরই নিয়মিত ব্যবহার করতাম। কিন্তু বি’ইয়া’র উৎসাহে একেই আমি উদ্যোগ হিসেবে যুক্ত করেছি। প্রথমে আতœীয়-স্বজন এবং পরবর্থীতে অনলাইনের মাধ্যমে বিভিন্ন ক্রেতার তার নিয়মিত তৈরি তের, কাঠের চিরুনী আর কেকের নিয়মিত ক্রেতা। পারিবারের অন্যরাও সিরাজুম মুনিরার এ উদ্যোগে খুশি। তার মায়ের আনন্দটা আরো বেশি। তিনি বলেন, আমি ভাবতেও পারিনি এই মেয়ের দ্বারা এমন উদ্যোগ গ্রহণ করা সম্ভব হবে, তাও আবার কোন দোকান না দিয়েই ঘর থেকেই সে বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করছে। এ তো চাকরির থেকে অনেক ভালো।
মনিরা বলে,অনেক পরিশ্রম করে বাজার থেকে নারিকেল কিনে তা প্রক্রিয়া করে তেল তৈরি করতাম। এটা একধরণের আর্য়োবেদিক তেল। আমার মা আমাকে খুব সহযোগিতা করেছে। আমি যে উদ্যোক্তা হতে পারবো এ আতœবিশ^াস আমার কখনোই ছিলো না। বি’ইয়া আমাকে সেই পথ দেখিয়েছে।
চিরুনী নামে তার পণ্য এখন অনলাইন প্লাটফর্মে বিক্রি হচ্ছে। অর্ডার এত বেশি যে প্রতি সপ্তাহে তাকে ৩-৪ জন মহিলাকে চুক্তিবিত্তিক কাজ করাতে হয়। চিরুনীর তেল, কাঠের চিরূনী আর কেকের কদর বেড়েই চলেছে। তেল তৈরির জন্য প্রায় তাে মার্কেটিং করার জন্য সে নিজেই একটি ওয়েবসাইট তৈরী করেন। সে ফেইসবুক সাইটও ব্যবহার করেন এবং প্রতিদিন বাসাতে বসে প্রায় ১০ বোতলের মত তেল বিক্রয় করেন। সিরাজুম মুনিরা প্রথম দিকে সদস্যায় পড়েছিলো। তিনি বলেন“ আমি ধৈর্য্য হারিয়ে ফেলতাম কিন্তু যখন থেকে বি’ইয়ার প্রশিক্ষণ পেয়েছি। আমার উৎসাহ আরো বেড়ে গিয়েছে। আমি ব্যবসায়িক পরিকল্পনা করতে শিখেছি এবং জেনেছি আমি এক বছরে ৩ লক্ষ টাকা আয় করতে পারব। আমি সেভাবেই পরিকল্পনা মত এগিয়ে চলেছি। বি’ইয়ার মেলায় সর্বপ্রথম যোগ দিয়ে আরো উৎসাহ বেড়েছে।। আগামী ২ বছরের মধ্যে আমার প্রতিষ্ঠানে ৩-৪ জন কর্শীকে স্থায়ীভাবে চাকরি দিতে চাই, তাহলের ব্যবসার পরিসর আরো বেড়ে যাবে। সিরাজুম মনিরাকে কোন ব্যাংক থেকে ব্যবসার জন্য ঋণ প্রয়োজন পড়েনি। তিনি ট্রেড লাইসেন্স করার জন্য পরিকল্পনাও করছেন। তার ব্যবসা নিয়ে অনেক স্বপ্ন তিনি তার পণ্যকে একটি ব্যান্ডে তৈরী করবে। িিন বলেন, আমি সেই স্বপ্ন দেখি যখন মানুষ চিরুনী’র পণ্য কিনে হবে ধন্য।
তিনি তার উদ্যোগ নিয়ে আত্মবিশ^াসী। ‘চিরুনী’ একদিন স্বমহিমায় কেক, চিরুনী ও হারবাল তেলের বিশ^স্ত পণ্য হিসেবে স্থান করে নেবে এই প্রত্যাশায় পরিশ্রম করছে সিরাজুম মুনিরা।

সিরাজুম মনিরা

স্যামু লেদারই উদ্যোক্তা মমিনের পরিচয়

উদ্যোক্তা হতে হলে বয়স যে কোন বাধা নয় তার উদাহরণ মমিন দেওয়ান। মাত্র ২৩ বছর বয়সে মমিন দেওয়ান প্রতিষ্ঠা করেছে স্যামু লেদার নামক চামড়াজাত পণ্য তৈরির প্রতিষ্ঠান।
মমিন দেওয়ান ২০১৪ সালে চাঁদপুর থেকে ঢাকায় এসে অনার্সে ভর্তি হয়্। বড় ভাইয়ের কাছে থাকায় লেখাপড়া আর হাত খরচের টাকার কোন চিন্তাই ছিল না তার। বরং হাত খরচের টাকা জমিয়ে লাখতে রাখতে এক সময় তার পরিমাণ পঞ্চাশ হাজার পেরিয়ে যায়। বড় ভাই খুব আদর করতেন, বলতেন, মমিন ভাল করে লেখাপড়া কর, ভাল একটা চাকরি হয়ে যাবে। কিন্তু মমিন দেওয়ান ততদিনে চাকরির চিন্তা বাদ দিয়ে জমানো টাকা দিয়ে কি করা যায় সে চিন্তায় বিভোর। সে লক্ষ্য করেছে চামড়াজাত পণ্যের প্রতি তরুণ উদ্যোক্তাদের আগ্রহ রয়েছে। মাত্র ২৫ হাজার টাকা পকেটে নিয়ে সে ঢাকার বিভিন্ন মার্কেটে ঘুরে চামড়াজাত পণ্য যেমন বেল্ট, মানি ব্যাগ ইত্যাদির কিনে প্রথমে বন্ধু বান্ধব ও পরে বিভিন্ন মেলায় বিক্রি শুরু করলো। এদিকে বড়ভাই এবং গ্রামের বাসায় খবর পেয়ে বাবাও রেগে গেল ব্যবসা শুরু করার জন্য। মমিন কিছুতেই বোঝাতে পারলো না যে সে লেখাপড়ার পাশাপাশি ব্যবসাটা করছে। কিন্তু পরিবার থেকে ঐ এক কথা আগে পড়াশুনা শেষ হোক তারপর ব্যবসা। মমিন কিছুটা মেনে নেয়ার ভান করে চালিয়ে গেল ব্যবসা। সুযোগ পেয়ে ২০১৬ সালে চামড়াজাত পণ্য বিষয়ক একটি প্রশিক্ষণ সমাপ্ত করলো বিসিক থেকে। এর অল্প কদিন পর ২০১৭ সালের প্রথম দিকে একদিন উত্তরার এক মেলায় বি’ইয়ার মেহেদী হাসানের সাথে দেখা। তারপর বি’ইয়ার সাথে যুক্ত হওয়া, প্রশিক্ষণ নেয়া, ব্যবসা পরিকল্পনা করা। আর ঠিক তখন থেকেই তার চিন্তার দিগন্ত বিস্তৃত হতে লাগলো। সে চিন্তা করে দেখলো, এক দোকান থেকে পণ্য কিনে আর অনত্র বিক্রি করার চেয়ে নিজেই ছোট পরিসরে চামড়াজাত পণ্য উৎপাদন করলে মুনাফা বেশি। ব্যস, সেইভাবা সেই কাজ। মাত্র ২৫ হাজার টাকা দিয়ে শুরু মমিনের পথ চলা। এরপর বিভিন্ন মেলায় অংশ নিয়ে যে আয় হয়েছে সেই টাকা পুনরায় ব্যবসায় লগ্নি করেছে। এভাবে অঅয় দিয়ে মোহাম্মদপুরের একটি কারখানা ভাড় নেয়া হলো। প্রক্রিয়াজাত চামড়া পাইকারি কিনে এনে, ২ জন কর্মী রেখে শুরু হলো উৎপাদন। ততদিনে বাসার লোকজন বুঝে গেছে এ ছেলেকে দিয়ে আর যাই হোক চাকরি করানো যাবে না। গত দুই বছরে মমিন নিজের প্রতিষ্ঠান স্যামু লেদারের পণ্য নিয়ে অংশ গ্রহণ করেছে বিভিন্ন মেলায়। বি’ইয়ার তরুণ উদ্যোক্তাদের প্লাটফর্মের একজন সক্রিয় কমী হিসেবে যুক্ত আছে বি’ইয়ার সাথে। বি’ইয়া তাকে দিয়েছে একজন ব্যবসায়িক মেন্টর। যার দিক নির্দেশনায় এগিয়ে চলছে মমিন দেওয়ান। অনলাইনে দারাজ, আলিবাবায় রয়েছে তার পণ্য। বর্তমানে তার কারখানায় কর্মরত আছে ৭ জন কর্মী। বর্তমানে মমিন দেওয়ানে স্যামু লেদারে রয়েঝে ৬টি মেশিন, ৭ জন কর্মী। এখন তার পুঁজি হয়েছে ১৫ লক্ষ টাকা।
স্যামু লেদার নিয়ে মমিন দেওয়ানের পরিকল্পনা, “ আমি আগামী তিন বছরের মধ্যে আমার তৈরি পণ্য দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করবো, আমার নিজস্ব একট ব্রান্ড হবে। আমার কারখানা আরো বড় হবে, অন্তত ৫০ জন কর্মী আগামী তিন বছরের মধ্যে থাকবে আমার কারখানায়। আমার বাসার লোকজন এখন আমাকে সাপোর্ট করছে। আমি চাই আমার মত তরুণরা চাকরির পিছনে না ছুটে, চাকরি দেয়ার জন্য উদ্যোক্তা হোক।”
মমিন দেওয়ান এগিয়ে চলেছে তার লক্ষ্যের দিকে, সেই সাথে এগিয়ে নিতে চায় আরো তরুণ উদ্যোক্তাদের।

মমিন দেওয়ান, Your Content Goes Here

পরিবারের সমর্থন সাহস যুগিয়েছে হাবিবাকে

কিছু দিন চাকরি করার পর নিজের মত করে কিছু করার প্রত্যয়ে মিরপুরে উম্মে হাবিবা (২৫) টেষ্টি টেবিল নামে ফাস্ট ফুড ব্যবসা শুরু করেছেন। টেষ্টি টেবিলের খাবারের স্বাদ মিরপুর ১২নং দুয়ারীপাড়ার বাসিন্দাদের খুবই পছন্দের।
লেখাপড়া শেষ করার আগেই বিয়ে। শ^শুড়-শাশুড়ির চাপেই চাকরিতে যোগ দেয়া। হাবিবা বলে, আমার শ^শুড়-শাশুড়ির কথা, শিক্ষিত মেয়ে ঘরে বসে থাকবে কেন। তোমার ইচ্ছে হলে কিছু একটা করো। াামার স্বামী একটা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে, আমারও ইচ্ছে ছিলো কিছু একটা করার। সে অনুযায়ী মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানীতে চাকরিতে যুক্ত হলমা। কিন্তু ছয় মাস যেতে না যেতেই চাকরি আর ভালো লাগছিলো না। স্বামী বললো,‘চাকরি ভালো না লাগলে বাদ দাও’, চাকরি বাদ দিলাম। এরপর ঘরে অখন্ড অবসর, কী করি কী করি যখন ভাবছি, তখন আমার এক পরিচিত জনের মাধ্যমে বিই’য়ার সাথে যোগাযোগ হলো। প্রথমে ভেবেছিলাম আমার মত ফ্রেসকে বি’ইয়া নেবে না। কিন্তু তারা আমার কিছু করার আগ্রহ দেখেই তাদের সাথে নিয়ে নিলো। তারপর দুটি প্রশিক্ষণ নিয়েছি, জেনেছি যে কোন উদ্যোগ নেয়ার জন্য কী কী করা প্রয়োজন।
এরপর আমার পরিবারে প্রশিক্ষণের কথাগুলো আলোচনা করে ঠিক করলাম, ব্যবসা করবো। ব্যস,শ^শুড় আর আমি মিলে শুরু করলাম ওয়াজিবা ফুড পার্ক। শ^শুড়ের কাজ হলো বিক্রির হিসাব লিখে রাখা আর আমি বাজার থেকে শুরু করে কর্মী ব্যবস্থাপনা সবই করতাম। কিন্তু কিছুদিন পর দোকানের মালিকের নানা ধরণের উৎপাতের জন্য দোকান ছাড়তে বাধ্য হলাম। সেখানেও বাধলো সমস্যা। আমার দেয়া অগ্রীম আর কিছুতেই সমন্বয় করে না। পাওনা টাকা ফেরতও দেয় না। এদিকে ব্যবসা চালিয়ে যাবোই তা ই অন্য একটি দোকান ঠিকও করে ফেলেছি। সেখানে অগ্রীম দিতে হবে এদিকে দিনের পর দিন ঘুরাচ্ছে দোকানের মালিক, কিছুতেই টাকা দিচ্ছে না।
সমস্যা থেকে উত্তোরণের উপায় দেখিয়ে দিলো আমার মেন্টর আর বি’ইয়া। স্থানীয় থানায় গিয়ে মামলা করেই সুরাহা। তারপর শুরু করলাম নতুন নামে ‘টেষ্টি টেবিল’ ফাস্টফুড। আমি যখন পুরনো দোকানের মালিকের সাথে সমস্যায় পড়েছিলাম তখন খুব টেনশন গেছে। এতগুলো টাকা তার উপর দোকানের মালিকের ব্যবহার আমার দিন রাতের ঘুম হারাম করে দিয়েছিলো। ঐ সময় বি’ইয়া আমার পাশে দাঁড়িয়েছে, কিভাবে সমস্যা মোকাবিলা করতে হয় তা শিখিয়েছে। আমি আমার মেন্টর এবং বি’ইয়া’র কাছে কৃতজ্ঞ। সেই সাথে কৃতজ্ঞতা জানাই অন্য বি’ইয়া পরিবারের অন্য তরুণ উদ্যোক্তাদের, যারা সব সময় আমাকে সাহস যুগিয়েছে। আর আমার পরিবারের সকলকে যারা আমাকে স্বাধীনতা ও প্রেরণা দিয়েছে নিজের পায়ে দাঁড়াবার জন্য।
উম্মে হাবিবা এখন স্বপ্ন দেখে তার টেষ্টি টেবিলের স্বাদ পুরো ঢাকায় ছড়িয়ে পড়েছে তার প্রতিষ্ঠান অনেক বড় হয়েছে। অন্য তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য তার পরামর্শ, ভয় পেলে হবে না এগিয়ে যেতে হবে দৃঢ়তার সাথে।

উম্মে হাবিবা, Your Content Goes Here

তাহমনিা তার মেনটরের প্রতি কৃতজ্ঞ

মানুষ স্বপ্ন দেখে, স্বপ্নই মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে বহুদূর যেতে সহায়তা করে। স্বপ্নের সিড়িঁ বেয়ে পরিকল্পনার সুতা বুননে তাহমিনা কবির ডলির পথ চলা। আর স্বপ্ন পূরণে বি’ইয়া সবচেয়ে বড় সারথী।

১৯৯৫ সালে বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন তাহমিনা কবির ডলি (২৪)। ডলির বাবা শৈশবে মারা যান, ফলে বিশাল পরিবারে নেমে আসে অভাব নামক দানব, জীবনের সাথে যুদ্ধ করতে হয় খুব ছোট বেলা থেকেই। তার পড়ালেখার জন্য বড় বোনেরা সহযোগিতা করেছে। সেই দুর্বিঃসহ দিন গুলো স্মৃতির পাতায় আজও উজ্জ¦ল হয়ে আছে। অনেক প্রাপ্তিতে ডলি গ্রাজুয়েট শেষ করেন, কিন্ত মাষ্টার্স শেষ করার জন্য অর্থ সহযোগিতার প্রয়োজন যার ব্যয় বহণ করা পরিবারের জন্য খুব কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। এরপরও অনেকের সহযোগিতায় ঢাকার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ঢাকায় এসে নিজেকে নতুন করে আবিস্কার করলেন। এই ইট পাথরের শহরে চাকরী বা টাকা উপার্জন একটি কষ্টকর ব্যাপার। তিনি উপলদ্ধী করলেন, নিজে থেকে কিছু একটা করতে হবে।

২০১৭ সালের প্রথম দিকে বাংলাদেশ ইয়ূথ এন্টারপ্রাইজ অ্যাডভাইস এন্ড হেলপ্ সেন্টার(বি’ইয়া) এর কথা জানতে পারেন । তার প্রচন্ড আগ্রহ তৈরী হয়, বি’ইয়ার একটি কর্মশালায় অংশগ্রহনের জন্য আবেদন করেন। কর্মশালায় অংশগ্রহনের সুযোগও পেয়ে যান, বি’ইয়া কর্তৃক আয়োজিত কর্মশালায় অংশগ্রহন করে নিজেকে নতুন রুপে আবিস্কার করলেন, তার চিন্তার আমূল পরিবর্তন হয়, নিজের যোগ্যতা আছে এটা প্রমান করার সুযোগ আছে।

পরিবারের সাথে আলোচনা করে ডলি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন তিনি ব্যবসা করবেন। তিনি বিভিন্ন ব্যবসা ও বিভিন্ন পণ্য দেখে,বিশ্লেষন করে তিনি দেখেছেন পাটের তৈরী নানা পণ্যে বাংলাদেশের শৌখিন মানুষের আগ্রহ অনেক। এটা খুবই সহজলভ্য, পরিবেশ বান্ধব এই পণ্যের চাহিদাও অনেক, কিন্তু মানসম্পন্য পণ্য বাজারে নেই। পরিকল্পনা শেয়ার করলেন বি’ইয়ার সাথে। পেয়ে গেলেন একজন মেন্টর।বাবার পেনশনের কিছু টাকা নিয়ে তিনি পাট থেকে নানা শৈল্পিক পণ্য উৎপাদন শুরু করলেন।
গত দুই বছরে ডলি পাটের তৈরী এই পণ্য বাংলাদেশের নানা প্রান্তে পৌঁছে দিয়েছেন, বানিজ্য মেলা সহ নানা উৎসবে তিনি এই পন্য সরবরাহ করছেন, আন্তর্জাতিক ভাবে তিনি এই পন্য ছড়িয়ে দিতে চান। তৈরী করতে চান মানুষের কর্মসংস্থান।
তিনি বলেন, আমি জানি আমি কোথায় যেতে চাই। আমার উৎসর্গ,আবেগ এবং প্রচেষ্টা আমাকে একদিন আমার লক্ষে পৌঁেছ দিবে। কৃতজ্ঞতা জানান বি’ইয়া পরিবারকে যাদের পরামর্শে তিনি এতোদূর আসতে পেরেছেন।

nt Goes Here

তাহমনিা, Your Content Goes Here

এস বি গিফট শপ এক শৈল্পিক পণ্যের নাম


কাগজ আর কাঠের দিয়ে তৈরি বিভিন্ন ধরণের উপহার সামগ্রী তৈরি করে ইতিমধ্যে সুনাম অর্জন করেছে মো: সজিব( ২৮), এসবি গিফঠ শপের কর্ণধার। ঢাকার মোগাম্মদপুরে এসবি গিফট শপের ছোট্ট কারখানায় ৩ জন কর্মী সর্বদা ব্যস্ত থাকে বিভিন্ন গিফটের অর্ডার তৈরি ও সরবরাহ করার কাজে। প্রতিটি কাগজের ভাঁজে আর নকশায় সজিব ফুটিয়ে তোলে আনন্দের রং।
জীবিকার তাগিদে ২০১৩ সালে ঢাকায় আসা পর চাকরিতে যুক্ত হওয়া। প্রতিদিন ৯ থেকে ৫ টা পর্যন্ত অফিস করে কেটে গেছে প্রায় ৫টি বছর। ছোট বেলা থেকেই ছিলো রং আর তুলির প্রতি ঝোঁক। অফিসের পর বাসায় এসে সেই রং আর তুলি নিয়ে কাগজে বিভিন্ন নকশা করা। তার এই প্রতিভার কথা কাছের মানুষরা জানতো। মাঝে মাঝে বন্ধুদের আব্দার মেটাতে হতো বিভিন্ন উপহার সামগ্রী বানিয়ে। তখন থেকেই ভাবনায় এলো, চাকরির পাশাপাশি এই শখকেই তো আর একটি পেশা হিসেবে নেয়া যায়। ২০১৬ সালে সেই ভাবনা থেকেই ফেইসবুকে এসবি গিফট শপ নামে একটি পেইজ খোলা। তখন সবে মাত্র অনলাইনে কেনাকাটার বিষয়টি বাংলাদেশে শুরু হয়েছে। তারপরও বেশ কিছু অর্ডার পেতে থাকে সজিব, কিন্তু চাকরি করার পর যে সময় থাকে তাতে পণ্যের অর্ডার সময় মত সরবরাহ করা কঠিন হয়ে যাচ্ছিল। সজিব সিদ্ধান্তই নিয়েছিলো যে, সে পুরোপুরি চাকরিতেই মনোযোগি হবে।
একটি দিনের স্মৃতিচারণ করে সজিব বলে, ২০১৭ সালের মার্চ মাসটি তার মনে থাকবে আজীবন। সেদিন আমি বি’ইয়ার একটি ওয়ার্কশপে গিয়েছিলাম। ঐ দিনের আলোচনায় শুনে আমি মনস্থির করেছি, আমি উদ্যোক্তা হবো, চাকরি ছাড়বো। তারপর বি’ইয়ার বিভিন্ন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছি, নিজেই ব্যভসা পরিকল্পনা তৈরি করে পুরোদমে এসবি গিফঠ শপকেই দাঁড় করার জন্য শ্রম, সাধনা করছি। সেই সিদ্ধান্ত আমার সঠিক হয়েছে। আজ আমি এসবি গিফট শপের নামেই পরিচিত, পরিচিত একজন উদ্যোক্তা হিসেবে। আমার একমাসের আয় রোজগার সেই চাকরির চার মাসের সমান। আমি উতেদ্যাক্তা হিসেবে পরিচয় দিতে পেরে আনন্দিত, গর্বিত।’
মো: সজিবের এসবি গিফট শপের কলেবর বৃদ্ধি পেয়েছে। ছোট হলেও নিজের একটি কারখানা রয়েছে, সেখানে ৩ জন স্থায়ী কর্মী কাজ করেছে। ২০১৮ সালের জীবনে প্রথম বি’ইয়া’র মেলায় নিজের বিভিন্ন পণ্য যেমন, কার্ড, কাঠে বিভিন্ন নকশার ছবি, পেপারে চকলেট উপহার প্রর্ভতি পণ্যের প্রদর্শনী করে করেছে দারুণ খুশি সজিব। বর্তমানে তার ৪ লক্ষ টাকার পুঁজি। দেশ টেলিভিশনে দুবার কাগজের পণ্যে তৈরির দূরশিখনে ক্লাস নিয়েছে, প্রাকটিক্যাল এ্যাকশনসহ বিভিন্ন কর্পোরেট হাউস তার নিয়মিত ক্লায়েন্ট। অনলাইনের মাধ্যমে এসবি গিফট শপের পণ্য সাড়া দেশের মানুষ পাচ্ছে সহজেই। যে কোন সমস্যায় তাতে পথ দেখায় তার মেন্টর।
মো: সজিব বলে, নিজের সৃষ্টির মত আনন্দের আর কিছু হতে পারে না। বি’ইয়া আমাকে সে আনন্দ উপভোগ করার পথ দেখিয়েছে। আমার একজন মেন্টর আছেন যিনি আমাকে আমার উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে বিভিন্ন পরামর্শ দেন। আছে আমার মতই কিছু তরুণ উধ্যোক্তা। তাদের দেখেও আমি উৎসাহিত হই আরো বড় কিছু করার।
এসবি গিফট শপ অনেক বড় হবে, তার পণ্য দেশের গন্ডি ছাড়িয়ে বিদেশে বিক্রি হবে এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য নিরলস পরিশ্রম করছে মো: সজিব।

মো: সজিব, Your Content Goes Here

ব্যবসা ক্ষেত্র

SlName
খাদ্য
হস্তশিল্প
পোশাক
চামড়া পণ্য
সেবা
পাট পণ্য
আইসিটি

আমাদের উদ্যোক্তার পণ্য

ব্যবসা           : চামড়াজাত পণ্য তৈরি ও বিক্রয়

উদ্যোক্তা      : মাইন উদ্দিন

যোগাযোগ   : ০১৭৪৯৪৩৪০০৩

ব্যবসা          : বাড়ীর তৈরি খারার প্রস্তুত এবং বিপণন

উদ্যোক্তা     : ফারহানা রুনা

যোগাযোগ : ০১৯১৮৯৬৯৫৬৫

ব্যবসা           : ঘর সাজানোর পণ্য

উদ্যোক্তা       : পার্থ/অর্থা

যোগাযোগ    : ০১৯১৮৯৬৯৫৬৫

ব্যবসা           : ঘর সাজানোর পণ্য

উদ্যোক্তা       : পার্থ/অর্থা

যোগাযোগ    : ০১৯১৮৯৬৯৫৬৫

বি’ইয়া তরুণ উদ্যোক্তা প্ল্যাটফর্ম

নংনামশিল্প খাত এন্টারপ্রাইজ ফোন ইমেইলমন্তব্য
ওহাব খানএসি এন্ড রিফিজারেশন ইলেক্টনিক্স সার্ভিসসিটি ইঞ্জিরীয়ারিং ০১৭৫৩০৯১৬৮৩[email protected]
আরিফুল ইসলাম এসি এন্ড রিফিজারেশন আরিফা রিফিজারেশন
০১৭১৮১৬৩০৮৫[email protected]
আইরিন আক্তার ফ্যাশনরিয়েল ফ্যাশন০১৭৫৪৯৮৬৯৮০[email protected]
মোঃ মাইন উদ্দিন লেদারলেদার টেন
০১৬৭৬৬৯১৪৫৯[email protected]
মোঃ নাঈমস্যানিটারীনাঈম স্যানিটারী০১৯৩৭৮৮৮৫৯৮[email protected]
সাথীবিউটি পার্লারঅপ্সারা বিউটি পার্লার০১৭১২২৫৯১৯৩[email protected]
ফাহমিদা রশিদ মেঘলা ফ্যাশনসুইট ড্রিম ০১৯৫৭৪৪৩২৫৫[email protected]
এইচ, এম, আল-আমিন একোরীয়ামজলজ একোয়া০১৬৭৩৫৮৪৭০৯[email protected]
মাসুদ রানা লেদার পণ্য পেক্স লেদার ০১৭৫৮১৯৩৯৫৫[email protected]
১০জান্নাতুল ফেরদৌসিঅনলাইন শপস্বপ্নেরহাটত০১৭৪০৪১৬৮৮৫[email protected]
১১জাহিদুল ইসলামঅনলাইন শপই জাদু ডট কম০১৮২৩৮১৪১০৯byeah2[email protected]
১২ফারজানা আক্তার রুনাখাবারআর. বি ফুড এন্ড ক্যাটারিং[email protected]
১৩তাজুল ইসলামএগ্রো০১৬৮১৬৯১৭৪১[email protected]
১৪পার্থ প্রতিম ঘর সজ্জা অর্থা ফ্যাশন ০১৬১২৪৬১৫০০[email protected]
১৫মোঃ সুলতান মাহমুদ গার্মেন্টস ভুঁইয়া আউট ফিট ০১৮১৪৯৭৬৬৮৬[email protected]
১৬মুনিরুল হাসান বিলাস, আহবায়ক অনলাইন শপস্বপ্নেরহাট০১৭১৩০৮০৩০১[email protected]
১৭আলাউদ্দিন সোহেল অনলাইন শপওকে শপ ০১৮১৭২৬৪১২৭[email protected]

একজন উদ্যোক্তা হয়ে উঠুন

নিবন্ধন








ব্যক্তিগত তথ্য















পুরুষনারী

হ্যাঁনা



















কাজ সম্পর্কিত তথ্য

















ডাউনলোড ফরম