দিনা লায়লা : এগিয়ে যাওয়ার নাম

একজন আত্নপ্রত্যয়ী উদ্যোক্তার নাম দিনা লায়লা। । দিনা লায়লার ভাষায়, ‘অনেক কষ্টে অর্জন করা সাহসটাকে আরো সুদৃঢ করতে চাই।’ এই সাহসটি হলো নারীর ক্ষমতায়ন, ইচ্ছার বাস্তব রুপায়ন, এ সাহসটা হলো তাঁর কষ্টের দিনের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা। ঢাকা মিরপুর-১০ এর বাসিন্দা দিনা লায়লা আজ নিজের লালিত স্বপকে পূরণ করার জন্য এগিয়ে যাচ্ছে। এ এগিয়ে যাওয়া এত সহজ ছিল না। বার বার চেষ্টা করেও দিনা লায়লা কোন কোন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ পাচ্ছিলেন না। দিনা লায়লা বলে, লেখাপড়া শেষ না করেই নিজের পছন্দ অনুযায়ী বিয়ে করেন সুজনকে। অনেক বাধা বিপত্তি সহ্য করে, পরিবারের সাথে এক রকম যুদ্ধ করেই তিনি ২০১৪ সালে একটি পার্লার দিয়েছিলেন । এ কাজে যথেষ্ট দক্ষতা থাকায় ব্যবসার আয় দিয়ে সংসার কোন রকমে চলছিল, ২০১৬ সালে তার ব্যবসার পুঁজি ছিল ৩ লক্ষ টাকা। দিনা লায়লার মনে প্রতিষ্ঠিত উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দানা বেধেঁ ওঠে। এরই মধ্যে তাদের সংসারে নতুন অতিথি আসে, বেড়ে যায় সংসারের খরচ। স্বামী ও তার আয় দিয়ে সংসারের পুরো ব্যয় বহন করা দুরুহ হয়ে পড়ে। ছোট্ট বিউটি পার্লারকে বড় করার জন্য বিভিন্ন ব্যাংকে ঋণের জন্য ধর্ণা দিয়েছিল দিনা লায়লা। ব্যবসার কাজপত্র থাকা সত্বেও কোন প্রতিষ্ঠান তাকে চাহিদা অনুযায়ী ঋণ দিচ্ছিল না, কী কারণ সে জানে না। তারই এক পরিচিত বন্ধুর সাথে তিনি একদিন বি’ইয়া’র সাথে যুক্ত হন। ৫ দিনের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে তিনি ব্যবসা সম্পর্কে আদ্যোপান্ত জানতে পারেন, যা আগে তিনি কখনোই ওভাবে জানতেন না। এর পর তিনি বি’ইয়া’র সহযোগীতায় ব্যবসা পরিকল্পনা থেকে শুরেু করে ব্যাংক হিসাবরক্ষণ প্রভৃতি বিষয়গুলো সহকারে তিনি বি’ইয়া’র পরামর্শে মাইডাস ফাইন্যান্সিং লিমিটেড এ একটি পূর্ণাঙ্গ ঋণ প্রস্তাবনা জমা দেন। বি’ইয়া’র সাথে যুক্ত অনেক উদ্যোক্তাই মাইডাস থেকে ঋণ পেয়েছেন, এরই ধারাবাহিকতায় এক মাসের মধ্যে দিনা লায়লা ৪ লক্ষ টাকা ঋণ পেয়ে তাঁর ব্যবসাটি সম্পসারণ করার সুযোগ পায়। এখন বিউটি পার্লারের সাথে একটি জিম এবং একটি বুটিক হাউস যুক্ত করেছেন। আর খুব খেয়াল রাখেন ক্রেতার প্রতি সর্বোচ্চ সেবা প্রদানের বিষয়টি। ধীরে ধীরে তার প্রতিষ্ঠানটির সেবার গুণগতমান ও জনপ্রিয়তা বেড়েই চলেছে। প্রতিমাসে ঋণ নিয়মিত শোধ করার পরও দিনা লায়লার হাতে বেশ কিছু টাকা উদ্বৃৃত্ত থাকে যার থেকে কিছু সঞ্চয় করছেন। এখন তাঁর প্রতিষ্ঠানে ৬ জন কর্মী কাজ করছে। এবার তিনি পরিকল্পনা করেছেন আরো একটি পার্লাার ও জিমের শাখা খুলবেন। সাথে সাথে বি’ইয়া’র নতুন উদ্যোক্তার সাথে নিয়মিত আলোচনা করেন, ব্যবসা পরামর্শ দেন । দিনা লায়লা একটা কথাই নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য বলেন, লক্ষ্যটাকে স্থির রেখে, ধ্যৈর্য ধরে রাখা। সফলতা একদিন আসবেই।”